পুলিশ ও মেলাসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে পাশাপাশি দুটি মেলার আয়োজন চলছিল—মাসব্যাপী ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’ ও এক সপ্তাহব্যাপী ‘যুব মেলা’। এসব মেলা উপলক্ষে মাঠে ফটক ও বিভিন্ন স্টল নির্মাণ করা হচ্ছিল। মেলার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের অভিযোগ, সকালে শেকৃবির ৭০–৮০ জন শিক্ষার্থী মাঠে গিয়ে এসব স্থাপনা ভাঙচুর করেন। পুলিশের একটি দল উপস্থিত থাকলেও তারা শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, ভাঙচুরের পাশাপাশি মালামেশ ও স্টল নির্মাণের যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মেলা উপলক্ষে নির্মিত টিনের বেড়ার একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং কয়েকটি কাঠের কাঠামো মাটিতে পড়ে আছে। মেলার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মূল ফটক ভাঙচুর করা হয়েছে এবং এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
যুব মেলার স্টল নির্মাণকর্মী ইউসুফ সর্দার বলেন, সরকারের অনুমতি নিয়েই তাঁরা স্টল নির্মাণ করছেন। মাঠ নিয়ে আপত্তি থাকলে তা সরকারের সঙ্গে সমাধান করার বিষয় উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, স্টল ভাঙচুর কেন করা হলো—এতে তাঁদের দোষ কী।
শেকৃবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন। তাঁদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ভাঙচুরের মতো ঘটনা আর যেন না ঘটে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং সেখানে সচিবালয় স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে। এর আগে মঙ্গলবার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের জন্য মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার কাজ চলার সময় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গিয়ে মাটি পরীক্ষার যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। ওইদিন তাঁরা ক্লাস ও পরীক্ষাও বর্জন করেন এবং মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেন।
মন্তব্য –
মন্তব্য করতে লগইন অথবা রেজিস্টার করুন। লগইন · রেজিস্ট্রেশন
মন্তব্য লোড হচ্ছে...